Institutions History

উত্তর বিশ্বনথ আমজদ উল্লাহ কলেজের

ইতিকতা

মোঃ নেছার আহমদ

অধ্যক্ষ

সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলা শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি পশ্চাদপদ এলাকা ।এর উত্তর পশ্চিমাঞ্চল এ ক্ষেত্রে আরো অনগ্রসর ও অবহেলিত। এলাকার অনেক মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থী এস এস সি পাশ করার পর উপজেলা বা জেলা সদরের কলেজগুলোতে গিয়ে পড়ালেখা করতে পারে না, ফলে বরাবরই তারা উচ্চ শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হত। এলাকার এই সম্ভাবনাময় তরুন শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার দ্বার গোড়ায় পৌছে দিতে এগিয়ে আসেন এলাকার কিছু উচ্চ শিক্ষিত তরুন শিক্ষানুরাগী। এজন্য কয়েকটি মত বিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়। এক পর্যায়ে এগিয়ে আসেন এলাকার একজন সমাজসেবি ও শিক্ষানুরাগি ব্যাক্তি মরহুম আমজদ উল্লাহ সাহেবের পুত্র ডাঃ আব্দুল মুনিম, যিনি বর্তমানে আমাদের মাঝে বেচে নেই। তিনি একটি কলেজ প্রতিষ্টায় সর্বাত্বক সাহায্য ও সহযোগিতার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। শুরু হয় কলেজ প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম । এ পর্যায়ে যারা অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন তাদের মধ্যে জনাব মরহুম মর্তৃজ আলী মাষ্টার, জনাব আশরাফ আলী,জনাব নজরুল ইসলাম, জনাব সাইদুর রহমান , জনাব মাসুক মিয়া,জনাব মরহুম আব্দুল খালিক মাষ্টার, জনাব ফরিদ আহমদ,জনাব নেছার আহমদ, জনাব আব্দুর রশীদ প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।১৯৯৪ইং সনের ১৫ই জুন তারিখে পূরাণ রাজাগন্জ বাজারে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়। উক্ত সভায় জনাব ডাঃ আব্দুল মুনিম  কলেজের জন্য প্রয়োজনিয় তিন একর  ভূমি ও ১৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি ভবন নির্মান এবং কলেজের যাবতীয় ব্যয়বার বহন করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং এর বিনিময়ে তাঁর মরহুম পিতা আমজদ উল্লাহ সাহেবের নামে প্রতিষ্ঠানটির নাকরণ করার আগ্রহ ব্যক্ত করেণ। তার প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং আমজদ উল্লাহ কলেজ’ নামে একটি নতুন কলেজের যাত্রা শুরু হয়। নামকরনের পর ডাঃ আব্দুল মুনিম সাহেবকে আহবায়ক নজরুল ইসলাম সাহেবকে সদস্য সচিব করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট আমজদ উল্লাহ কলেজ বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়। কলেজ প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্ত করে পুরান রাজাগনজ বাজারে দুটি আধাপাকা ভবন নির্মান করে ১৯৯৪-১৯৯৫ শিক্ষাবর্ষে মানবিক ও বানিজ্য শাখায় ছাত্র-ছাত্রি ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। নতুন কলেজ হিসাবে প্রচারনার পাশাপশি বাড়ি বাড়ি হেঁটে ছাত্র-ছাত্রী সংগ্রহ করা হয়।শিক্ষার্থী সংগ্রহ অভিযানে আমি সহ কলেজে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রভাষকবৃন্দকে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হয়,যার মিটে-কড়া অনেক স্মৃতি রয়েছে।৬৫ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের তৎকালিন চেয়ারম্যান প্রফেসর জনাব আব্দুল মজিদ ও কলেজ ইন্সপেক্টর জনাব কাজী  দিলুয়ার খাঁন কলেজের নতুন ক্লাশ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্টানে প্রফেসর জনাব আব্দুল মজিদ কলেজের অবস্থান ও কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং দ্রুতগতিতে কলেজটি একাডেমিক স্বীকৃতি পায়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে ০৮ই জানুয়ারী ১৯৯৫ইং রাতের অন্ধকারে কলেজটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। যেহেতু আমাদের জানামতে কলেজের কোন শত্রু ছিলনা  সেহেতু কাউকে দায়ী না করে থানা ও জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়। তারা সুরজমিন কলেজটি পরিদর্শন করে সন্দেহজনক ব্যাক্তি বা গোষ্ঠির বিরুদ্দে অভিযোগ দাখিলের পরামর্শ দেন কিন্তু নানাদিক বিবেচনা করে ততকালিন কলেজ কর্তৃপক্ষ ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ কাউকে দায়ি না করে অনভিপ্রেত এই ঘটনার রেশ কিভাবে কাটিয়ে উঠা যায় সে লক্ষে এগুতে থাকেন কলেজটিকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে। এ পর্যায়ে অগ্রনি ভূমিকা পালন করেন কলেজের বর্তমান গভর্নিং বডির সদস্য বিশিষ্ঠ সমাজ সেবক ও শিক্ষানুরাগী জনাব আব্দুল ওয়াদুদ বিএসসি। পরবর্তীতে বিভিন্ন চরাই উতরাই পেরিয়ে কলেজের কার্যক্রম চলতে থাকে এবং ১৬/০৯/১৯৯৭ইং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবেনিয়োগ দেওয়া হয়। আমি দ্বায়িত্ব প্রাপ্তির কিছুদিন যেতে না যেতে ই দাতা পক্ষের অসহযোগিতা এবং তাদের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক কলেজ পরিচালনা ব্যয় বহনে অনিহা ইত্যাদি কারনে কলেজ পরিচালনাকার্য অচল হয়ে পড়েে এবং কলেজটি বন্দ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। এলাকাবাসী ও ব্যাক্তি নামীয় প্রতিষ্ঠানে নিজেদের শ্রম ও অর্থ ব্যয় করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এমতাবস্থায় দাতাপক্ষ ও এলাকাবাসীর যৌথ বৈ্টকে দাতাপক্ষ কলেজ্রের যাবতীয় ব্যয় বহনে সম্পূর্ন অপাায়গতা প্রকাশ করেন (অথচ কথা ছিল সরকারী অনুদান প্রাপ্তির পূর্ব পর্যন্ত দাতাদের পক্ষ থেকে শিক্ষক-কর্মচারীর যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করার  এবং নাম পরিবর্তন করেও যদি এলাকাবাসী কিলেজটি চালিয়ে যান তবে তাদের কোন আপত্তি থাকবেনা বলে স্পষ্ঠ জানিয়ে দেন এবং অঙ্গীকার প্রদান করেন। এর ফলে কলেজের নাম পরবর্তন করে "উত্তর বিশ্বনাথ কলেজ" নামকরণ করা হয় এবং এলাকাবাসি যাবতিয় ব্যয়ভার বহন করতে থাকে। অনেক প্রচেষ্ঠার পর ০১/০২/১৯৯৮ইং তারিখ থেকে প্রতিষ্ঠানটি এম পি ও ভূক্ত হয়, এর পর থেকে কলেজটি ঊত্তর বিশ্বনাথ কলেজ হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে। এ সময়ে যারা প্রতিষ্ঠানাটির উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সর্বজনাব হাজী লুৎফুর রহমান, হাজী আব্দুল মান্নান, হাজী হুশিয়ার আলী, মাহমুদ জামান খান, আব্দুল মুকিত,ডাঃ বারিন্দ্র কুমার দেব, ডাঃ সরোয়ার হোসেন চেরাগ, মোঃ নাজিম উদ্দিন আহমদ,ফখর উদ্দিন মাষ্টার, তাজ উদ্দিন আহমদ, আব্দুল জলিল, আব্দুল খালিক মাষ্টার প্রমুখ। বর্তমানে দাতাপক্ষ কলেজ পরিচালনায়  সংশ্লিষ্ঠ হতে আগ্রহী হয়ে এগিয়ে আসায় এবং প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যত উন্নয়নের স্বার্থে কলেজ গভর্নিং বডি দাতাপক্ষের অতিত অবদান ও বর্তমান অবদানের কথা স্মরন করে তাদের চাহিদা মোতাবেক কলেজটির বর্তমান নাম "উত্তর বিশ্বনাথ কলেজের" সাথে আমজদ উল্লাহ সংযুক্ত করে "উত্তর বিশ্বনাথ আমজদ উল্লাহ কলেজ" নামে নামকরন করতে সম্মতি প্রদান করে। এরই প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ৩০/১০/২০১৪ ইং তারিখের পত্র মোতাবেক অনুমোদিত হয়ে বোর্ড কর্তৃক ০৯/১১/২০১৪ ইং তা্রিখে নাম পরিবর্তিত হয়ে উক্ত নামে কলেজটি পরিচালিত হচ্ছেএবং দাতা পক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি মোতবেক তিন তলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ঠ একটি ভবনের একতলা নির্মান করে দিচ্ছেন। নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত এই কলেজটি পাবলিক পরীক্ষায় ও ভাল ফলাফল অর্জন করে আসছে। কলেজটির বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে এলাকাবাসী যদি আরো আন্তরিক হন তাহলে অদুর ভবিষ্যতে কলেজটি বাংলাদেশের তালিকাভূক্ত নামকরা কলেজগুলোর তালিকায় উঠে আসবে বলে আমি দৃড় বিশ্বাসী।  

Website Develop Company: Web Nest Ltd. Office: Farid Plaza, (3rd floor), Zindabazar, Sylhet. Phone: +8801713540655, Web: www.webnestbd.com